শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাঁচ চিরকুটের পরও নানা প্রশ্ন: ফ্লোরে পা, বন্ধ কক্ষ—তদন্তে কী খুঁজছে পুলিশ?
প্রকাশ : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১২:১৩:০০ পিএম
সুনীল ঘোষ:
Shornolota_2026-09-12_6aa4f60824e7a.jpg

❒ বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কিন্তু কাটছে না রহস্য ছবি:

বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্যকিছু লুকিয়ে আছে পেছনে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার হলেও মরদেহের অবস্থান, বন্ধ কক্ষ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও প্রকৃত ঘটনা জানতে চলছে তদন্ত।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিস থেকে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলক চ্যাটার্জি দীর্ঘদিন দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালে বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন তিনি।

ঘটনাস্থল নিয়ে প্রশ্ন

সমকাল বরিশাল ব্যুরোর বর্তমান অফিস প্রধান সুমন চৌধুরী জানান, পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে বিষয়টি তাকে জানান। পরে তিনি অফিসে এসে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে আটকানো।

তিনি জানান, সাবেক ব্যুরো প্রধান হিসেবে পুলকের কাছে অফিসে প্রবেশের একটি চাবি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দিনের কোনো একসময় তিনি ওই চাবি দিয়ে অফিসে প্রবেশ করেন।

তবে ঘটনাস্থলের কিছু বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পা ফ্লোরে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। ফাঁসের ঘটনায় শরীরের অবস্থান, ব্যবহৃত উপকরণ, গলার চিহ্নসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব বিষয় এখন তদন্তের অংশ।

পাঁচ চিরকুটে কী লিখে গেছেন পুলক?

মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। এসব নোটে স্ত্রী, মেয়ে, ভাই, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং সহকর্মীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথা লিখেছেন পুলক।

প্রশাসনের উদ্দেশে লেখা নোটে তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্ত্রী ও মেয়ের উদ্দেশে লেখা চিরকুটে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও আবেগের বিষয় উঠে এসেছে।

সহকর্মী সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে লেখা নোটে সমকালে তার পাওনা টাকা পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো নোট পাওয়া গেলেই ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট হয় না। নোটগুলো কখন লেখা হয়েছে, কী পরিস্থিতিতে লেখা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী—এসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।

পুলিশের তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে—

ঘটনাস্থলের আলামত
#মরদেহের অবস্থান ও ফরেনসিক প্রতিবেদন
#উদ্ধার হওয়া চিরকুটের সত্যতা
#ঘটনার সময় অফিসে প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য
#পুলকের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত পরিস্থিতি।

বরিশাল মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, পুলক চ্যাটার্জি একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

পেশাগত জীবনের চাপ ও শেষ সময়

সহকর্মীরা জানান, ২০২৩ সালের মে মাসে সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুলক চ্যাটার্জি মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি সমকাল অফিসে এসে বসতেন।

তবে তার মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিক মহলে এখন একটাই দাবি—ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।

পাঁচটি চিরকুট কি শুধু একটি সিদ্ধান্তের শেষ বার্তা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও কোনো অজানা অধ্যায়—তার উত্তর মিলবে তদন্তেই।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝