| শিরোনাম |
❒ সুন্দরবনে র্যাবের কাছে ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ ছবি:
সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫২ জন সদস্য র্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত তিন দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-৬-এর উদ্যোগে আয়োজিত কার্যক্রমে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ দস্যুদের এই আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব-৬-এর মিডিয়া শাখা থেকে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চার বাহিনীর প্রধানও রয়েছেন।
র্যাব জানায়, সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজারো মানুষ জীবিকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদারের পর বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চার বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাবের দাবি, একসঙ্গে চারটি জলদস্যু বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনে দস্যুদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমবে। পাশাপাশি নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন বনজীবীরা।
র্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র্যাব।