সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে ধরপাকড় অব্যাহত

যশোরে ছাত্রলীগ নেতা রিফাত আ’লীগের আজাদ গ্রেফতার
প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট , ২০২৬, ০৬:০৪:০০ পিএম
মোল্লা মশিউর, বিশেষ প্রতিনিধি:
Shornolota_2026-08-31_6a95983498be3.jpg

❒ যশোরে ছাত্রলীগ নেতা রিফাত আ’লীগের আজাদ গ্রেফতার ছবি:

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রিফাতুজ্জামান রিফাত ও আওয়ামী লীগ কর্মী আজাদ ওরফে ‘বোমারু আজাদ’কে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ডিবি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তরের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁদের আটক দেখানো হয়। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রিফাতুজ্জামান রিফাত সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা কাজীপুর এলাকার ইন্তাজ আলীর ছেলে। তাঁকে নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, চাচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া গ্রামের আয়ুব আলী মোড়লের ছেলে আজাদ ওরফে ‘বোমারু আজাদকে’ আটক করা হয় চাচড়া চেকপোস্ট এলাকা থেকে।

কোতোয়ালি থানার এসআই জিএম ইমরান হোসাইন রাজু বলেন, সোমবার সকালে ডিবি পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, আটক দুজনই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি। ওই মামলায় তাঁদের আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধরপাকড়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন

সারাদেশের মতো যশোরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। একের পর এক আটক, মামলা ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে—এসব অভিযান কি কেবল নির্দিষ্ট মামলার তদন্ত ও আইন প্রয়োগের অংশ, নাকি এর পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও কাজ করছে?

অবশ্য কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হলেই তা রাজনৈতিক হয়রানি—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে ‘সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ থাকার পুলিশের অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

তবে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি, মামলার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ এবং আটক করার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ্যে স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একই ধরনের আইনি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা তৈরি হলে জনমনে প্রশ্ন ওঠে—আইন কি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে?

মামলা, অভিযোগ ও বিচার—তিনটি বিষয় আলাদা

আটক দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর অর্থ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—দুটিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

এই জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব শুধু আটক করা নয়; আটকের কারণ, অভিযোগের ভিত্তি এবং তদন্তের প্রমাণও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।

কারণ রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সময়ে ধারাবাহিক ধরপাকড়ের ক্ষেত্রে পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণের নজর থাকে। আইন প্রয়োগ যদি প্রমাণনির্ভর ও স্বচ্ছ হয়, তাহলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার সন্দেহ কমে। আর অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে অস্পষ্টতা থাকলে সেই সন্দেহ আরও বাড়ে।

আইনের প্রয়োগ নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের অভিযোগ?

যশোরের এই দুই আটকের ঘটনাকে তাই শুধু আরও দুটি গ্রেপ্তারের খবর হিসেবে দেখার পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ধরপাকড় অব্যাহত থাকার অভিযোগের মধ্যে নতুন করে এই আটকের ঘটনা সেই বিতর্ককে সামনে আনছে।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ধারণ করবে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া। পুলিশ যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে। আর যদি অভিযোগের সঙ্গে আটকের ভিত্তির সামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক মত ও পরিচয় নির্বিশেষে একই আইনি মানদণ্ড প্রয়োগ এবং আটক ব্যক্তির ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাই পারে এই ধরনের ধরপাকড় নিয়ে তৈরি হওয়া সন্দেহ কমাতে।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝