| শিরোনাম |
❒ সন্দেহের তীর ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ জহুরুল ইসলামের দিকে
❒ সংগ্রহীত ছবি:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর থেকে ফার্মেসিতে নেওয়ার পথে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওষুধের হিসাব-নিকাশে গরমিল থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম মেডিসিন স্টোরের রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গ্রহণ করেন। তবে ফার্মেসির রেজিস্টারে ওই ওষুধ জমা ও ব্যবহারের যথাযথ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গত প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের সরবরাহ নেই। ফলে ব্যবস্থাপত্রে প্রয়োজনীয় হলেও রোগীরা হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে বিনামূল্যে এই অ্যান্টিবায়োটিক পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেফুক্লেভ গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিকের বাজারমূল্য প্রতি পিস প্রায় ৬০ টাকা। সেই হিসাবে ৫ হাজার ট্যাবলেটের মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. এএইচএম মনজুর উদ্দিন বলেন, “গত প্রায় দুই মাস ধরে আউটডোরে কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের সরবরাহ নেই। ফলে এই ওষুধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লিখতে পারছি না।”
ওষুধের হিসাবের গরমিলের বিষয়টি সামনে আসার পর হাসপাতালের কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারা বলেন, “দামি ওষুধগুলো আমরা নিয়মিত মনিটর করার চেষ্টা করি। তবে কয়েকদিন ধরে কিছু ওষুধের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। স্টকে থাকার কথা থাকলেও রোগীরা ওষুধ পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, “কেফুক্লেভ ওষুধের হিসাবে কিছু গরমিল হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফার্মাসিস্ট ইনচার্জকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। স্টক রেজিস্টার ও ফার্মেসির রেজিস্টার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষে ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের হিসাবের গরমিলের প্রকৃত কারণ এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।