| শিরোনাম |
❒ পরীক্ষার আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছুটান
❒ ফাইল ছবি:
সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তিতে আগামী বছরও লটারির ব্যবস্থা বহাল রাখার কথা চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা প্রশাসন। এরআগে শিক্ষামন্ত্রী আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম-এমনটিই ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে সরকার লটারি বহাল রাখার কথা ভাবছে।
আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারিপদ্ধতি বহাল রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে লটারি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, চলতি মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাতে বলেন, ভর্তিতে পরীক্ষার বদলে লটারি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। লটারি বহাল রাখা যায় কি না বা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখা যায়, সে বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আশা করছি, ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
এর আগে, চলতি বছরের ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারিপদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সে সময় মন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম।’
উল্লেখ্য, ২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।