| শিরোনাম |
❒ মনিরামপুরের ৩ প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তভার পেলো যশোর ডিবি
❒ ফাইল ছবি:
মণিরামপুরের ব্যস্ত বাজারে নিজের স্বপ্নের ছোট্ট বিউটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন এক নারী মেকআপ আর্টিস্ট। সাজিয়ে তুলতেন অন্যের আনন্দের দিন, অথচ নিজের জীবনেই নেমে আসে একের পর এক অন্ধকার অধ্যায়। পরিচয় থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি—সবকিছুই যেন ছিল এক সুপরিকল্পিত প্রতারক চক্রের ফাঁদের অংশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে পরিচয়ের পর জিএম ফাহিম আলমগীর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ধীরে ধীরে এসি, ওভেন, সোনার গহনা, নগদ অর্থসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিজের দখলে নেন। শুধু তাই নয়, ক্যাফে ব্যবসায় লোকসানের অজুহাতে কয়েক দফায় আরও অর্থ ধার নেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু অভিযোগ বলছে, বিয়ের পর সুখের সংসারের বদলে শুরু হয় নির্যাতনের নতুন অধ্যায়। স্বামীর বাড়িতে আটকে রাখা, মারধর করে জোরপূর্বক সমঝোতার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং পরে তালাক দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাদীর সোনার গহনাও আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ফাহিম আলমগীর দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আরও চার লাখ ১২ হাজার ৯২৪ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে, গত ২৫ মে মণিরামপুর বাজারের পাট গবেষণা অফিসের সামনে নিজের পাওনা টাকা ও সোনার গহনা ফেরত চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অভিযুক্তরা টাকা-গহনা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
সব ধরনের সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ ভরসা হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই নারী।
এ ঘটনায় যশোরের মণিরামপুরে বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ ও সোনার গহনা আত্মসাৎ এবং আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে আসামি করে আদালতে নালিশি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মণিরামপুর বাজারের ওই নারী মেকআপ আর্টিস্ট ও একটি বিউটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবা শারমিন অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন মণিরামপুর বাজারের বাসিন্দা জিএম ফাহিম আলমগীর ও তার স্ত্রী শারমিন নাহার এবং উপজেলার কমলাপুর গ্রামের অসীম চক্রবর্তীর ছেলে অমিত চক্রবর্তী।