| শিরোনাম |
❒ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত-প্রাথমিক ধারণা ফায়ার সার্ভিসের
❒ যশোর বড়বাজারে ৩টি দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষতি ছবি:
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজারের ফেন্সি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিনটি দোকান। আগুনের তাপে পাশের আরও একটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ৮টার মধ্যে মার্কেটের একটি কসমেটিকসের দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
এতে কসমেটিকস ব্যবসায়ী শামীম হোসেন, সিটি গোল্ড ব্যবসায়ী পারভেজ শেখ এবং ছিপ-বড়শির সুতা ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলামের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পাশাপাশি পাশের আরও একটি সিটি গোল্ডের দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পারভেজ শেখ জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাশের দোকানদার মোহাম্মদ নাঈম তার দোকান থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখে আশপাশের সবাইকে খবর দেন। স্থানীয়রা প্রথমে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
পারভেজ শেখ বলেন, তার দোকানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার সিটি গোল্ডের মালামাল ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
অপর ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, তার সিটি গোল্ডের দোকানটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দোকানে থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ছিপ-বড়শির সুতা ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, মাত্র এক মাস আগে নতুন মালামাল তুলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আগুনে তার প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।
খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সময়মতো ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারত। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
এদিকে যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।