রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)
খামেনির শেষ বিদায়, ইরানে একটি যুগের অবসান
প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুলাই , ২০২৬, ০৭:০৫:০০ পিএম
স্বর্ণলতা আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
Shornolota_2026-07-04_6a4913799882c.JPG

❒ আলি খামেনি ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন ছবি:

প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ বিদায়ের এই আয়োজনকে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে জাতীয় সংগীত, কোরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির মরদেহ হাজারো শোকাহত মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। পরে তার মরদেহ কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন করা হবে।

আলি খামেনি ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়োগের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব নিজের হাতে রাখেন।

তার শাসনামলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়। একই সময়ে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে, যাকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন উত্তেজনা বজায় ছিল।

খামেনি সবসময় দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে।

আঞ্চলিক নীতিতে খামেনি মিত্র সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করেন। তবে এ নীতির কারণে ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর শুরু হওয়া জাতীয় শোকানুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তার মৃত্যু ইরানের ভেতরে অনেকের কাছে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝