| শিরোনাম |
❒ উঠতি বয়সে মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া, হতাশায় অভিভাবক মহল
যশোরের মণিরামপুরে আবারও প্রাণ কেড়ে নিল বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল। রোববার (৩১ মে) রাতে রাজগঞ্জ-কাশিমনগর সড়কের তালতলা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।
নিহতরা হলেন কাশিমনগর ইউনিয়নের নাদরা গ্রামের ইসমাইলের ছেলে রাকিব (২৭) এবং কামরুজ্জামানের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একই মোটরসাইকেলে রাজগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রাকিব ও মেহেদী। পথে তালতলা এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নাদরা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। কয়েক ঘণ্টা আগেও যারা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেই দুই তরতাজা যুবকের নিথর দেহ ফিরে এসেছে বাড়িতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মণিরামপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অনেকেই হেলমেট ব্যবহার করেন না, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংকে সাহসিকতা হিসেবে দেখছেন। ফলে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
অভিভাবক মহলের ভাষ্য, সন্তানদের নিরাপদ রাখতে পরিবার যতই সচেতন করার চেষ্টা করুক না কেন, সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন গতি ও আইন অমান্যের সংস্কৃতি তাদের গভীর হতাশার মধ্যে ফেলেছে। তারা বলছেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় তরুণদের একটি অংশ ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ছে না। তারা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর প্রশ্ন রয়ে গেছে—সচেতনতা, আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ঘাটতি পূরণ না হলে এমন কত পরিবারকে আরও শোক বয়ে বেড়াতে হবে?