| শিরোনাম |
❒ স্বজনদের অভিযোগ ১০০ টাকা না দেয়ায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে নাজমা, অভিযোগ অস্বীকার
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
মৃত শিশুর নাম নাজমা। সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নুর ইসলামের মেয়ে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৭ মে থেকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল নাজমা।
স্বজনদের অভিযোগ, রোববার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করেন। খুলনায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় হাসপাতালের চতুর্থ তলার শিশু ওয়ার্ড থেকে নিচে নামানোর সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাজমা বেগম শিশুটির নাকে সংযুক্ত অক্সিজেনের পাইপ খুলে বড়দের ব্যবহৃত একটি অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেন। শিশুটির বাবাসহ স্বজনদের অভিযোগ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাজমা বেগম ১০০ টাকা দাবি করেছিলেন কিন্তু তারা দেননি। সেই ক্ষোভ থেকে অক্সিজেন খুলে দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত নাজমা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শিশুটির বাবা নুর ইসলাম দাবি করেন, অক্সিজেন সরবরাহের পদ্ধতি পরিবর্তনের পরপরই তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শিশুটির নাকে লাগানো অক্সিজেনের পাইপ পরিবর্তন করা না হলে হয়তো তার সন্তানের মৃত্যু হতো না। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। পরে তারা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা ও রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের সময় অক্সিজেন সংযোগ পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথ চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে করা হয়নি। তারা মনে করছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে কারও অবহেলা বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী স্থানান্তর ও অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।