| শিরোনাম |
❒ সীতাকুন্ডুর সলিমপুরে ভোর ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলিবিনিময়
❒ গত ৩ দশকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ভয়াবহরুপ কমই দেখা গেছে-সচেতন মহলের দাবি
❒ সীতাকুন্ডুর সলিমপুরে ভোর ৪টা পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের সাথে র্যাব-পুলিশের থেমে গুলিবিনিময় ছবি:
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ রূপ গত তিন দশকে খুব কমই দেখা গেছে। গভীর রাতে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীর হামলায় কেঁপে উঠল চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো র্যাব ক্যাম্পের দেয়াল, এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে ফেলা হলো যাতায়াতের রাস্তা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে দফায় দফায় গুলিবিনিময়। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনীতি সচেতন মহলের দাবি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এভাবে সন্ত্রাসীরা যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, তা ভাবাই যায় না।
রোববার দিবাগত রাত ১টার পর সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় নতুন স্থাপিত পুলিশ ও র্যাবের যৌথ ক্যাম্পে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ২৫০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এ হামলায় অংশ নেয়।
পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, হামলাকারীরা প্রথমে ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে যাতায়াতের বিভিন্ন সড়ক এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে ফেলে ক্যাম্পকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পের পেছনের অংশের দেয়াল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনাও ভাঙচুর করা হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাতের অন্ধকারে যৌথ ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে এবং ক্যাম্পের সুরক্ষায় আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নন-লিথাল অস্ত্রের পাশাপাশি পাল্টা গুলিও চালানো হয়।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ভোর ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় চলে। পরে যৌথ বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার খবর পেয়ে ভোরেই ঘটনাস্থলে যান পুলিশের ডিআইজি, র্যাব-৭-এর অধিনায়ক এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বর্তমানে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকে শুরু হয়েছে চিরুনি অভিযান। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আকস্মিক এ হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। এর আগেও সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। পরে ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রশাসন এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেখানে দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
তবে ওই অভিযানের পরও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অধরাই থেকে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল এবং ক্যাম্পে থাকা সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতেই এই সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে।