| শিরোনাম |
❒ সংসদ অধিবেশন
❒ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জাতীয় নেতাদের অবদানকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান
❒ সংসদ অধিবেশন, যেকারণে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছবি:
জাতীয় সংসদে নিজের নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত ব্যবস্থার নাজুক চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার অভাব ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তার এলাকার মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ বা জটিল রোগের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ঢাকা বা খুলনায় যেতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পথেই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। সম্প্রতি তার এক রাজনৈতিক সহকর্মী—কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরান—ঢাকায় নেওয়ার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় মারা যান বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১৯ বছর ধরে সিসিইউ ইউনিট অকেজো পড়ে আছে। স্বাস্থ্যসেবার করুণ অবস্থা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এখানে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় সম্পন্ন হলেও সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ ১৯ বছরেও ইউনিটটি চালু হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতায় সরকারি সম্পদের অপচয় হয়েছে; দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
যশোরের মানুষের এই দুরবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য পথে আর যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে। একই সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ন ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো দ্রুত সচল করার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কষ্টের কথা বলে সংসদের পরিবেশ ভারী করতে চাই না, তাই কিছু সুখস্মৃতির কথাও বলতে চাই।” তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর সফর করেন এবং ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচির ৫০ বছর পর পুনর্খনন কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় তিনি নিজের পারিবারিক স্মৃতির কথাও তুলে ধরে
রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দেন।
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বানও জানান। বিরোধী দলের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সামান্য কিছু বিষয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে দেখি, যা উদ্বেগজনক।”
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জাতীয় নেতাদের অবদানকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে ঐক্য জরুরি। “মতভেদ থাকলেও জাতীয় ঐক্যের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে”—যোগ করেন তিনি।