| শিরোনাম |
❒ শনিবার শেষ হচ্ছে প্রথমধাপ, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা অভিভাবক মহলে
যশোরে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষের পথে, কিন্তু লক্ষ্যপূরণ এখনো অনেক দূরে। প্রথম ধাপে ৯১ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্যের তিন ভাগের এক ভাগও পূরণ হয়নি—যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছে ৫৯ হাজার ৮২৫ জন শিশু। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরকারি ছুটির কারণে টিকাদান বন্ধ থাকায় চাপটা গিয়ে পড়েছে শেষ দিনের ওপর। শনিবার একদিনেই আরও ৩১ হাজার ১৭৫ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে—যা বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য।
অভিভাবকদের একাংশ এই পিছিয়ে পড়ার জন্য দায় দিচ্ছেন দুর্বল প্রচারণা ও সমন্বয়হীনতাকে। অনেকের অভিযোগ, কোথায় কখন টিকা দেওয়া হচ্ছে—সে তথ্যই পৌঁছায়নি সাধারণ মানুষের কাছে। ফলে অনেক শিশু রয়ে গেছে কর্মসূচির বাইরে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সন্তানকে টিকা দিতে আসা আফসানা বেগম জানান, “এখানে টিকা দেওয়া হচ্ছে—এটা আগে জানতামই না। পরে পরিচিত একজনের কাছ থেকে শুনে এসেছি। এসে দেখি, কার্যক্রম শেষ হতে আর মাত্র একদিন বাকি।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন রিক্তা ভট্টাচার্য্য। তার ভাষায়, “হামের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার পরও তেমন কোনো প্রচার চোখে পড়েনি। কোথায় টিকা দেওয়া হচ্ছে, সেটাই জানতাম না। খোঁজ নিতে এসে জানতে পারলাম, সময় প্রায় শেষ।”
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রথম ধাপে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও সামনে বড় পরিসরে কর্মসূচি চালানো হবে। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ধাপে টিকাদান শুরু হবে, যেখানে ২ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার ২ হাজার ২৮০টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
লক্ষ্যমাত্রার অসঙ্গতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে মাঠপর্যায়ের মাইক্রো পরিকল্পনার সঙ্গে সেই তথ্যের কিছু অমিল থাকায় এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে, জেলায় এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩২৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন রোগী উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।