| শিরোনাম |
❒ সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
❒ সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ছবি:
জামায়াত নেতাদের দায়মুক্ত করতে এবং তাদের জাতীয়ভাবে সম্মানিত করতেই খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে বিএনপিই ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’র মালিক।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে মীর শাহে আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়া আপনাদের নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিলেন, সেই কথা তো আপনারা একবারও বললেন না। আপনাদের যে শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস, সেটিও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের অবদান। আপনাদের দায়মুক্ত করার জন্যই তিনি জাতীয় পতাকা দিয়ে সরকারের অংশ করেছিলেন এবং সম্মানিত করেছিলেন।’
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি ওই চেয়ারে বসে আছেন মানে ১৯৭১ বসে আছেন। আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম। আপনাকে ১৯৭১ সালের প্রতিনিধি হিসেবে এই চেয়ারে বসানোর ক্রেডিট বিএনপির। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু ঘোষণাই করেননি, সরাসরি যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছেন।’
সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে সরকারি দলের বেঞ্চে বহু মুক্তিযোদ্ধা বসে আছেন– জয়নাল আবেদিন ফারুক, মনিরুল হক চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ অনেক প্রথিতযশা মুক্তিযোদ্ধা এখানে আছেন। যেটি বিরোধী দলের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।’
আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি সংগঠন যারা তিনটি ঐতিহাসিক আন্দোলনকে ধারণ করে। ১৯৭১, ১৯৯০ এবং জুলাই-আগস্ট– এই তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই বিএনপির ঘরে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এটি দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৭১ ও ৯০ বলতে পারলেও জুলাই-আগস্টের ট্রফি তাদের কাছে নেই। আবার বিরোধী দলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারলেও ৭১ ও ৯০ তাদের ঘরে নেই। একমাত্র বিএনপিই সবগুলোর অংশীদার।’
বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গুম, খুন, নির্যাতন ও জেল-জুলুমের পাহাড় ডিঙিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আপনারা মাঝপথ থেকে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, ১৪ সালের পর আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আসুন, দেশ পুনর্গঠনে সহযোগিতা করুন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশটিকে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।’