শুক্রবার , ১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)
নিয়োগ না বিতর্ক: সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের দায়
প্রকাশ : শনিবার, ৪ এপ্রিল , ২০২৬, ০৫:১৯:০০ পিএম
সুনীল ঘোষ:
Shornolota_2026-04-04_69d0f766dff65.JPG

❒ সেই সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ হলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ছবি:

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সবসময়ই কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি জনআস্থা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নও। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহর নিয়োগ সেই পুরনো প্রশ্নগুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গ্রেড-২ পদমর্যাদার এই নিয়োগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান—যা বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলোর একটি—তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই পদ। ফলে এখানে দক্ষতা, দূরদর্শিতা এবং সর্বোপরি গ্রহণযোগ্যতা—এই তিনটি বিষয়ই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য।

কিন্তু নিয়োগের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, তা পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ২০২৪ সালের একটি সহিংস ঘটনার সঙ্গে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহর সম্পৃক্ততার অভিযোগ—যদিও এখনো প্রমাণিত নয়—তবুও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।

এখানেই মূল সংকটটি স্পষ্ট হয়: রাষ্ট্র কি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবে, নাকি জনমতের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও সমান গুরুত্ব দেবে?

সামাজিক মাধ্যমের যুগে তথ্য যেমন দ্রুত ছড়ায়, তেমনি গুজবও একই গতিতে বিস্তার লাভ করে। ফলে যেকোনো অভিযোগকে অন্ধভাবে গ্রহণ করা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও দায়িত্বশীল আচরণ নয়। বরং প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য যাচাই প্রক্রিয়া, যা সত্য-মিথ্যা স্পষ্ট করে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ডিউ ডিলিজেন্স বা পূর্ব যাচাই কতটা কার্যকরভাবে করা হচ্ছে। যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে তা দ্রুত খণ্ডন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর যদি অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকে, তবে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও সমান জরুরি।

এই বাস্তবতায় সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহর নিয়োগ একটি বড় প্রশ্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে—আমরা কি শুধু পদ পূরণ করছি, নাকি বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করছি?

উপসংহারে বলা যায়, রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগই জনগণের কাছে একটি বার্তা দেয়। সেই বার্তাটি যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার হয়, তবে তা আস্থা বাড়ায়; আর যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা সন্দেহের জন্ম দেয়।
এখন সময়—প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার নয়, বরং স্পষ্ট উত্তর দেওয়ার।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝