| শিরোনাম |
❒ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে কিনে দিলে লাগিয়ে দিবো !
❒ প্রায় ৪ লাখ টাকা কোথায় পাবেন কৃষক ? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
❒ ফাইল ছবি:
যশোর সদরের হালসা গ্রামের বুকভরা বাওড় ঘেঁষা মাঠে এক রাতেই উধাও হয়ে গেছে আটটি ট্রান্সফরমার। ২৮ মার্চ দিবাগত রাতের এই চুরির ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে চরম সংকট—অন্ধকারে শুধু খুঁটি দাঁড়িয়ে, নেই বিদ্যুতের কোনো চিহ্ন।
এই ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সেচ কার্যক্রম। ফলে প্রায় সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ বিঘা জমির ইরি ধান এখন পানির অভাবে হুমকির মুখে। ঠিক এই সময়টাতেই ধানে শীষ আসছে—অর্থাৎ পানির সবচেয়ে বেশি দরকার। অথচ মাঠে ফাটল ধরার মতো অবস্থা।
আজ বুধবার ( ১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁওড়পাড়ে বসে উদ্বিগ্ন কয়েকজন কৃষক ও শ্যালো পাম্প চালক। তাদের চোখেমুখে হতাশা স্পষ্ট।
পাম্প চালক ওলিয়ার রহমান জানান, ২৯ মার্চ ভোরে মোটর চালু করতে গিয়ে তিনি প্রথম সমস্যার আঁচ পান। বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর না চললে খুঁটির দিকে তাকিয়ে দেখেন—ট্রান্সফরমারই নেই! পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একইভাবে আরও কয়েকটি মোটর বন্ধ হয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়, মোট আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
খবর পেয়ে মাঠে ছুটে আসেন কৃষক মোস্তফা ঢালি, হযরত আলী, জাহিদুল ইসলাম, মোরশেদ আলীসহ অনেকে। তারা দেখেন, ট্রান্সফরমারের খোলস পড়ে আছে মাঠে, কিন্তু ভেতরের তামার কয়েল গায়েব—চোরচক্রের সুপরিকল্পিত কাজ।
এরপর বিষয়টি কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হয়। পাশাপাশি কৃষি অফিস ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকেও জানানো হয়েছে।
কৃষক দিদার আলী জানান, বাঁওড় থেকে শ্যালো মেশিনে পানি তুলে এই মাঠে সেচ দেওয়া হয়। হযরত আলীর পাঁচটি ও সমিতির তিনটি—মোট আটটি ট্রান্সফরমার দিয়ে চলত এই সেচ ব্যবস্থা। চার দিন ধরে সেচ বন্ধ থাকায় জমিতে পানি নেই। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ধান ‘চিটা’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মাঠ পরিদর্শনে এসে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেনও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, “এই মুহূর্তে মাঠে পানির খুব প্রয়োজন। পানি না থাকলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
কৃষকদের দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নতুন ট্রান্সফরমার কিনে দিলে সংযোগ দেবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ট্রান্সফরমারের খরচ ৪৫-৫০ হাজার টাকা। আটটির জন্য প্রয়োজন প্রায় চার লাখ টাকা—যা বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
হালসা বুকভরা বাঁওড় সমবায় সমিতির সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, “এত টাকা জোগাড় করতে হলে আমাদের ঋণ নিতে হবে। কিন্তু এখনই ঋণ পাওয়াও কঠিন।”
এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান খান বলেন, “ট্রান্সফরমার কিনে দিলে আমরা দ্রুত সংযোগ দিয়ে দেবো। পাশাপাশি সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়া যায় কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।”
ইতোমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের কাছেও জানানো হয়েছে। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপই একমাত্র ভরসা—নয়তো পানির অভাবে মাঠভরা সোনালি স্বপ্ন হারিয়ে যেতে পারে কৃষকের চোখের সামনে।