| শিরোনাম |
❒ মন্দিরে হামলা ভাংচুরের পাশাপাশি চুরি থামছে না!
❒ সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা
❒ সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি ছবি:
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দিরে আবারও ঘটেছে এক লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা ভেঙে প্রতিমার গায়ে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার এবং দানবাক্সের নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। প্রাথমিক হিসাবে মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি হওয়া সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা এবং নিরাপত্তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরের দলটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে প্রবেশ করে। তারা ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির এবং জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্বৃত্তরা কোনো ধরনের তাড়াহুড়া ছাড়াই নির্বিঘ্নে মন্দির প্রাঙ্গণে ঘোরাফেরা করছে এবং প্রতিমার শরীর থেকে অলংকার খুলে নিচ্ছে—যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমার গা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে পালিয়েছে চোরেরা। এর মধ্যে রয়েছে—
চার ভরি ওজনের দুই জোড়া সোনার বালা,
এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা,
আট আনা ওজনের ‘মায়ের জিব’,
আট আনা ওজনের একটি সোনার চেইন,
দশ আনা ওজনের একটি নথ,
চার আনা ওজনের দুই জোড়া কানের দুল,
চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি।
এছাড়া প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের রুপার অলংকার এবং মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে প্রায় সাত হাজার টাকা নগদ নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মন্দিরের আরও কিছু মূল্যবান সামগ্রীও খোয়া গেছে বলে জানা গেছে।
ক্রমাগত মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও লুটতরাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জেলার প্রতিটি মন্দিরে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাদের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চোরদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু হয়েছে।”
সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দিরে এই চুরির ঘটনা নিছক একটি সাধারণ অপরাধ নয়—এটি স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির ওপর একটি গুরুতর আঘাত। কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন পুরো এলাকার মানুষ প্রশাসনের দ্রুত, কঠোর এবং কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।