| শিরোনাম |
❒ নেশার আগুনে পুড়ে বিবেক, মানবতা-সব ছাই
❒ প্রতীকী ছবি:
মাদক যে কেবল একজন মানুষকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি মানবিকতাকেও হত্যা করে—তার নির্মম প্রমাণ মিলল যশোরের কেশবপুরে।
নেশার টাকার জন্য নিজের জন্মদাতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এক মাদকাসক্ত ছেলে। যে বাবার কাঁধে ভর করে পৃথিবীর আলো দেখেছিল, সেই বাবার মাথায় মেহগনি কাঠের মুগুরের আঘাতে ঝরে গেল প্রাণ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে কেশবপুর উপজেলার বড়পাথরা গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করা ৭২ বছর বয়সী আজিজ বিশ্বাসের কাছে তার মাদকাসক্ত ছেলে সাগর ওরফে ইদ্রিস (২৬) পাঁচশ’ টাকা দাবি করে। নেশার টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ছেলে। মুহূর্তেই মানবিকতা হারিয়ে মেহগনি কাঠের মুগুর দিয়ে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করে সে।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধ আজিজ। দ্রুত তাকে কেশবপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অসহায় এই বৃদ্ধ।
এলাকাবাসী জানায়, সাগর দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিল। নেশার আগুনে পুড়ে তার বিবেক, মানবতা—সব ছাই হয়ে গেছে। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়।
নিহত আজিজ বিশ্বাস রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই ছেলে ও একটি মেয়ে। সারাজীবন ভিক্ষা করে পরিবার চালানো মানুষটি শেষ বয়সে নিজের সন্তানের হাতেই প্রাণ হারালেন—এ যেন সমাজের জন্য এক চরম লজ্জা ও সতর্কবার্তা।
কেশবপুর থানার ওসি সুকদেব রায় জানান, এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তোলে—আমাদের যুবসমাজ কোথায় যাচ্ছে? মাদকের ছোবলে আর কত বাবা-মায়ের বুক খালি হবে? আর কত পরিবার ভেঙে পড়বে?
মাদক শুধু অপরাধ নয়, এটি মানবতাহীনতার জন্ম দেয়—যার পরিণতি কখনো কখনো নিজের বাবার লাশ।