| শিরোনাম |
❒ হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আজ শেষ দিন
❒ শুরু সিঁদুর খেলার উৎসব ছবি:
আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী দিন বিজয়া দশমী। বিদায়ের আবেগে ভক্তদের চোখে অশ্রু, আর শহরময় প্রস্তুতি চলছে দেবীকে বিদায় জানানোর।
দিনভর যশোর শহরের প্রতিটি মণ্ডপে ভক্তরা প্রার্থনা, ধর্মীয় গান-বাজনা ও সন্ধ্যায় ঢাকের তালে তালে আরতি ও সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা। নারী ভক্তরা দেবীর চরণে সিঁদুর ছুঁয়ে একে অপরকে শুভকামনা ও মিষ্টিমুখ করছেন, পুরুষ ভক্তরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উৎসবের রঙে রাঙাচ্ছেন চারদিক।
রাত ৯টার পর থেকে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ-মন্দির থেকে বের হবে প্রতিমার শোভাযাত্রা। তখন ঢাক-ঢোলের তালে, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে যশোর শহরের অলিগলি। ভক্তরা নাচে-গানে, চোখের জলে দেবীকে বিদায় জানাতে এগিয়ে আসবেন লালদীঘি পুকুরপাড়ে।
শহরের প্রতিমা লালদীঘিতে
শুধুমাত্র যশোর শহরের মন্দির ও মণ্ডপের প্রতিমাগুলো লালদীঘি পুকুরে বিসর্জন হবে। তবে শহরের বাইরের প্রতিমাগুলো স্ব স্ব এলাকায়—নদী বা পুকুরেই নিরঞ্জন করা হবে।
শেষ প্রস্তুতি লালদীঘিতে
লালদীঘি পুকুরপাড়ে প্রশাসন ইতোমধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কঠোর নিরাপত্তার পাশাপাশি রয়েছে মেডিকেল সহায়তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা। চারপাশে ভিড় জমতে শুরু করেছে ভক্তদের, কেউ হাতে ধূপ, কেউবা ঢাক বাজাচ্ছেন প্রাণ খুলে।
এক ভক্ত বললেন, “দেবীকে বিদায় দিতে মন চাইছে না। তবে বিশ্বাস করি, আবারও তিনি ফিরে আসবেন।”
শহরের দৃশ্যপট
যশোর শহরের প্রধান সড়কগুলো এখন আলো ঝলমলে। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রতিমা শোভাযাত্রা দেখার অপেক্ষায়। ঢাকের তালে তালে তরুণদের নাচ, শঙ্খধ্বনিতে উৎসবমুখর চারদিক। লালদীঘির দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি শোভাযাত্রায় মিশে আছে ভক্তি, আনন্দ আর বেদনার সুর।
গভীর রাত থেকে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জন। লালদীঘির জলে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। তবে ভক্তদের মনে গেঁথে যাবে অনন্ত প্রতীক্ষার গান—“আসছে বছর আবার হবে।”