| শিরোনাম |
❒ “উন্নয়নের নামে পুকুর ধ্বংস কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়”—পরিবেশ আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি
যশোর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের পিয়ারি মোহন রোডের সাদেক দারোগার মোড়ে সরকারি পুকুর উন্নয়নের অজুহাতে দ্রুত ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি ওই এলাকার একমাত্র প্রাকৃতিক জলাধার। দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ, পশুপাখির পানি এবং বর্ষার সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণের জন্য পুকুরটির ভূমিকা অপরিসীম।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুকুর ভরাটের কোনো পরিকল্পনা আগে প্রকাশ করা হয়নি। হঠাৎ গাছ কেটে মাটি ফেলা শুরু হলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন- “পুকুর ভরাট হলে শহরের প্রাকৃতিক জলাধার হারাবে, জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাবে এবং আশেপাশের এলাকায় তাপমাত্রা ও ধুলাবালি বেড়ে যাবে। নিম্নআয়ের মানুষদের দৈনন্দিন জীবন চরমভাবে প্রভাবিত হবে।”
পৌর নাগরিক কমিটির মন্তব্য-“আমরা উন্নয়ন চাই, তবে পরিবেশ ও প্রতিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অনুমতি নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জনমত যাচাই করা হয়নি, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।”
পরিবেশ আন্দোলনকারীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, সরকারি জলাধার ভরাট করলে শুধুমাত্র এক এলাকার নয়, পুরো শহরের পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, যশোর পৌরসভা এলাকায় মোট ৩২০টি জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভার ৬টি, জেলা প্রশাসকের ৪০টি এবং বেসরকারি ২৭৪টি পুকুর। দশ-বারো বছর আগে সংখ্যা আরও বেশি ছিল।