| শিরোনাম |
❒ তালেবান সরকারের কী পতন ঘটতে যাচ্ছে ?
❒ সংগ্রহীত ছবি:
স্বৈরশাসকেরা যখন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খায়, তখন প্রথম যে অস্ত্র তারা হাতে নেয় তা হলো—ইন্টারনেট বন্ধ। পৃথিবীর নানা দেশে বারবার এই কৌশল দেখা গেছে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, শেষ পর্যন্ত এই কৌশল কখনো শাসকদের রক্ষা করতে পারেনি।
বাংলাদেশ (২০২৪)
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগমুহূর্তে হঠাৎ দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। সরকার দাবি করেছিল, “নেটওয়ার্ক পুড়ে গেছে”—কিন্তু বাস্তবে সেটি ছিল আন্দোলন দমন ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। ফেসবুক-টুইটার বন্ধ হলেও জনগণের স্রোত রাস্তায় নেমে আসে। ফলাফল—১৫ বছরের শাসনের পতন।
মিয়ানমার (২০২১)
সেনা অভ্যুত্থানের পরই জান্তা সরকার টানা কয়েকদিন মোবাইল ও ওয়াই-ফাই সেবা বন্ধ করে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল—বিক্ষোভ ঠেকানো। কিন্তু উল্টো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অমানবিক চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনগণ বিকল্প পথে সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যায়।
ইরান (২০১৯ ও ২০২২)
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ও নারী অধিকার আন্দোলনের সময় ইরান সরকার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করেছিল। তখন স্লোগান উঠেছিল—“ইন্টারনেট বন্ধ মানে জনগণের চোখ-মুখ বন্ধ।” কয়েক সপ্তাহ দমন-পীড়ন চললেও, বিশ্বমঞ্চে ইরান সরকারের ভাবমূর্তি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আফগানিস্তান (২০২৫)
সবশেষ উদাহরণ তালেবান। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তারা পুরো আফগানিস্তানে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তি—“অশ্লীলতা রোধ”। অথচ এর আড়ালে মূল উদ্দেশ্য হলো ভিন্নমত দমন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পশ্চিমাদের নজর এড়ানো। এর ফলে:
আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতাল ও অফিস কার্যক্রম। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও নারীদের অনলাইন শিক্ষার পথ বন্ধ হয়েছে।
আফগান পিস ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা হাবিব খান বলছেন, “৪ কোটি মানুষকে বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে তালেবান আফগানিস্তানকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে।”
বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইরান কিংবা আফগানিস্তান—সব জায়গায় একই দৃশ্য: শাসক শ্রেণি প্রথমে ইন্টারনেট বন্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্ল্যাকআউট জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শাসকদের নগ্ন করে ফেলে। শেখ হাসিনার পতন তার প্রমাণ। এখন প্রশ্ন—আফগানিস্তানে তালেবান কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে, নাকি একই পরিণতির দিকে এগোবে?