| শিরোনাম |
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ওসমান হারুনী (৪২) নামে এক সাংবাদিকের মরদেহ ঝুলছিল নিজ বাড়ির একটি ঘরে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পলাবান্দা ভাটিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির একটি টিনশেডের ঘরে প্রথমে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমান হারুনী মোহনা টেলিভিশনের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ইসলামপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরে তিনি মূল ঘর থেকে পাশের একটি টিনশেড কক্ষে যান, যেখানে তিনি সাধারণত সংবাদ প্রেরণের কাজ করতেন। কিছুক্ষণ পর তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ওই কক্ষে গেলে ওসমান হারুনীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, “গত দুই মাস ধরে তিনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই কাটাচ্ছিলেন। আমাদের মধ্যে মান-অভিমান চলছিল, ঠিকমতো কথাও হতো না। আর্থিক অনটন ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি খুব চিন্তিত ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে অর্থকষ্টে পড়ি। প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ হয়েছিল। এদিকে তার আবার একটি অপারেশন প্রয়োজন ছিল।”
সাংবাদিক ওসমান হারুনী দুই সন্তানের জনক। বড় ছেলে ইয়ামিন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে, আর ছোট ছেলে ইয়াকিন হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আতিকুর রহমান জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কিছু জটিলতা ছিল বলেও জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”