| শিরোনাম |
❒ স্বামী ও দুই ছেলেকে রেখে তার অকাল প্রয়াণে নেমেছে শোকের ছায়া
❒ সাংবাদিক মুন্নার স্ত্রী নীতি আর নেই ছবি:
যশোর আজ শোকে স্তব্ধ। ভোরের প্রথম প্রহরে হাসপাতালের বিছানায় নিভে গেল এক আলোকিত প্রাণের প্রদীপ। দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্নার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী, কবি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ নূরজাহান আরা নীতি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)।
পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক মিজানুর রহমান মুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র ৪৭ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি। রেখে গেলেন স্বামী ও দুই পুত্র সন্তান। বড় ছেলে স্বাক্ষর—এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট ছেলের নাম অক্ষর। তারা যশোর জিলাস্কুলের ছাত্র। মায়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছে দুই ভাই। ফোন ধরলেও কথা বলতে পারছিল না স্বাক্ষর—কেবল হাহাকার আর কান্নার সুর ভেসে আসছিল।
দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছিলেন নীতি। গত রোববার গভীর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি। আজ ভোরে থেমে যায় তাঁর জীবনের স্পন্দন।
আজ বাদ যোহর মনিরামপুর উপজেলার কাপালিয়া গ্রামে জানাজা শেষে বসতভিটায় চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবার চোখেই ছিল অশ্রু আর অবিশ্বাসের ছাপ।
স্ত্রী হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন গোলাম মোস্তফা মুন্না। সহকর্মীরা জানালেন, তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। সঙ্গীহারা এই সাংবাদিক যেন হঠাৎ নিঃসঙ্গতার গভীর অন্ধকারে ডুবে গেছেন।
নীতি শুধু একজন স্ত্রীই ছিলেন না—ছিলেন কবি, ছিলেন সংস্কৃতিমনা এক প্রাণ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিচিত নাম। তাঁর অকাল মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল স্বর্ণলতা ডট নিউজ–এর সম্পাদক-প্রকাশক মীর মোশাররফ হোসেন বাবু ও নির্বাহী সম্পাদক সুনীল ঘোষ এক যৌথ শোকবার্তায় নীতির রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন—“নীতি ছিলেন অনাড়ম্বর অথচ প্রাণবন্ত। তাঁর চলে যাওয়া এক শূন্যতা তৈরি করলো, যা যশোরের মাটিতে সহজে পূরণ হবে না।”