| শিরোনাম |
❒ সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর তথ্য
❒ ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণের পর রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা
❒ চোখের জলে সাংবাদিক সাংবাদিক বুলুর বিদায় ছবি:
খুলনার রূপসা সেতুর নিচ থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ওহেদ-উজ-জামান বুলুর লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নিয়ে রহস্যের জট খুলতে জোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। পরিবারের বরাত ও কোস্ট গার্ডের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, বুলু মৃত্যুর আগে এক নারীর সঙ্গে সেতুর ওপর ঝগড়া করেছিলেন। এক পর্যায়ে বুলু নদীতে ঝাপ দেন। তখন সেই অজ্ঞাত নারী চিৎকার দেন। আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই নারী নিরুদ্দেশ হন। এখন পর্যন্ত ওই নারীর হদিশ মেলেনি। তবে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণের পর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে-এমনটি প্রত্যাশা সাংবাদিক মহলের।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে রূপসা সেতুর ওপর বুলু ঘোরাঘুরি করছিলেন। কোস্ট গার্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি এক নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করছেন। একপর্যায়ে বুলু সেতু থেকে নদীতে লাফ দেন। ওই নারী তখন চিৎকার করতে করতে লোক ডাকেন কিন্তু পরে নিখোঁজ হন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, ঢাকায় থাকা ছোট ভাই আনিসুজ্জামান দুলুর সঙ্গে শনিবার রাতে বুলুর শেষ কথা হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, ভালোই আছেন। রোববার সকাল ৯:৩০–১০টার দিকে বাগমারা আদর্শপল্লীর শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হন বুলু। এরপর তাঁর সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়নি।
পরিবারের বরাত অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত চাপের কারণে বুলু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। প্রথম স্ত্রী এলিজা পারভীন গত ১১ মে নিখোঁজ হয়েছেন। পরে বুলু ডুমুরিয়ার তানিয়া সুলতানা নামের এক নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের পর মোটা অঙ্কের টাকা ও ৭ লাখ টাকার চেক দিয়ে বিয়ে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
বুলুর শ্যালক জুবায়ের জানান, কিছুদিন ধরে বুলুর মোবাইলে ফোন আসত। কল রিসিভ করার সময় বুলুর শরীর কাঁপত।
খুলনা নৌ পুলিশের সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, ‘বুলুর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। রূপসা সেতু ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের পর রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।’
রোববার সন্ধ্যায় রূপসা সেতুর ২ নম্বর পিলারের বেসমেন্ট থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ খুলনা প্রেসক্লাবে আনা হয়। সেখানে সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও অন্যান্য সংগঠনরা শ্রদ্ধা জানান।
ছোট ভাই দুলু বলেন, ‘বুলুর মৃত্যু স্বাভাবিক বলে আমরা মনে করি না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় সাংবাদিক ও ঘটনাস্থলের আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজনের ধারণা-অজ্ঞাত ওই নারীকে খুঁজে পাওয়া এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। সেই নারীর সাথে বুলুর কী সম্পর্ক এবং লোকালয়ে দু’জনের ঝগড়া-রহস্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
বুলু দৈনিক বঙ্গবাণী, আজকের কাগজ, চ্যানেল ওয়ান, ইউএনবি এবং দৈনিক প্রবাহসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) এবং বিএফইউজে’র সদস্য ছিলেন।