| শিরোনাম |
❒ ঝিনাইদহে শোকের ছায়া
❒ সাংবাদিক ও মানবাধিকারের পথিকৃৎ টুকু আর নেই ছবি:
ঝিনাইদহের সাংবাদিক সমাজ আজ যেনো এক অভিভাবকহীন। আর সমাজ হারালো এক সুনাগরিককে। প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, ইউএনবির জেলা প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মী অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
গত ২৪ আগস্ট ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। টানা ৮ দিনের লড়াই শেষে বিদায় নিলেন এক প্রজন্মের প্রেরণা হয়ে ওঠা এই মানুষটি। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তিনি শুধু খবর লিখেননি; অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দুর্বল ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অবলম্বন হয়ে।
ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের পুরোনো সদস্যরা আজ স্মরণ করছেন তাঁর হাসিমাখা মুখ, অটল নীতি আর সাহসী কলমের কথা। কেউ বলছেন, টুকু ছিলেন সংবাদকর্মীদের আশ্রয়—সমস্যা-সংকটে যাঁর কাছে ছুটে যাওয়া যেত নির্দ্বিধায়। আবার কেউ স্মরণ করছেন তাঁর মানবিক চেহারাকে—যিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন, কণ্ঠস্বর দিয়েছেন অধিকারহীনদের।
তাঁর মৃত্যু সংবাদে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজেও নেমে এসেছে গভীর শোক। অনেকেই বলেছেন, টুকুর চলে যাওয়া শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পেশাগত দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক যুগের অবসান।
কিন্তু এই মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—বাংলাদেশে সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, প্রায়ই এক নিঃস্বার্থ সংগ্রাম। যে মানুষটি জীবনভর কলম চালিয়েছেন সত্যের পক্ষে, তাকেও জীবনের শেষপ্রান্তে লড়তে হলো চিকিৎসার অনিশ্চয়তার সঙ্গে।
সোমবার রাতে ঝিনাইদহ উজির আলী হাই স্কুল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো বিদায় জানাবে ঝিনাইদহবাসী।
আমিনুর রহমান টুকুর বিশেষ অবদান ও প্রতিবাদের নজির
সাংবাদিকতার পর্দার পেছনের সাহস-২০২৫ সালের শুরুতে, নড়াইলে সময় টিভির সাংবাদিক সৈয়দ সজিবুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব ও টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তিনি কথা বললেন—ইউএনবির জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও নাম প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় দৃঢ় উপস্থিতি
এর আগেও, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেনের ওপর হামলার পর সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তিনি। ঝিনাইদহে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবি তুলে ধরেন।
মানবাধিকার আন্দোলনে দায়িত্ব
তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা (সচেতন নাগরিক কমিটি — সনাক) ও ভোক্তা অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সনাক ও ভোক্তা অ্যাসোসিয়েশনে দায়িত্ব পালন করায় তার মানবাধিকার ক্ষেত্রে প্রবল উপস্থিতি এবং দায়বদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছিল। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঝিনাইদহের প্রবীণ ও পেশাদার সাংবাদিকদের অনেকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান-“তিনি ছিলেন সাংবাদিক সমাজের পেছনের দৃপ্ত দৃশ্য—যেখানে হাত মাঠে, কলম হাতে শাস্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দিচ্ছিলেন।”
মানবাধিকার ও সাংবাদিক নিরাপত্তা “সাক ও ভোক্তা অধিকার সংস্থায় তার অবদান যেন মানবতার সঙ্গে সাংবাদিকতার দ্বৈত প্রতিশ্রুতি বহন করত।”
পেশাগত উদারতা “পেশাজীবী হিসেবে এক সময়ের অধ্যক্ষ আজ সাংবাদিক ও জনগণের নেতা—এ তার আন্তরীক্ষের সাহস।”