| শিরোনাম |
❒ রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পিবিআই ও সিআইডির টিম
❒ স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়া ও বুলুর মৃত্যু—দুই ঘটনাই কী একই সূত্রে গাঁথা-জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন
❒ সাংবাদিক বুলুর রহস্যজনক মৃত্যু ছবি:
খুলনার খান জাহান আলী সেতুর নিচ থেকে দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের খুলনা ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক ওয়াহিদুজ্জামান বুলুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে সেতুর ২ নম্বর পিলারের বেজমেন্ট থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয়। নৌ পুলিশ জানায়, বুলুর ডান হাত ও মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি স্বেচ্ছায় সেতুর উপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শী দাবিদার কেউ নাম ঠিকানা প্রকাশ করেননি। যেকারণে রহস্য আরও প্রকট হয়েছে।
র্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মারুফ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
লবণচরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রহিম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নদীর ভেতরে হওয়ায় বিষয়টি নৌপুলিশকে জানান। নৌপুলিশ রূপসা ফাঁড়ির এসআই বেল্লাহ হোসেন জানান, লাশ উদ্ধারের সময় বুলুর পরনে ছিল নীল গ্যাবাডিন প্যান্ট ও আকাশি রঙের টি-শার্ট। তার ডান হাত ও মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
পিবিআই ও সিআইডি টিম মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করছে। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন
বিশ্লেষণ
এই ঘটনাটি খুলনায় সাংবাদিক সমাজকে চরম শোক ও আতঙ্কে ফেলেছে। কারণ, বুলু শুধু একজন সাংবাদিকই নন, তিনি একইসঙ্গে এক রহস্যজনক পারিবারিক ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মাত্র তিন মাস আগে (১১ মে) তার স্ত্রী এলিজা পারভীন লিজা নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—স্ত্রীর নিখোঁজের রহস্য কি বুলুর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গেই জড়িত? নাকি পেশাগত কারণে তিনি কোনো ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন?
খান জাহান আলী সেতুর নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। মরদেহের ক্ষতচিহ্ন এবং ফেলে রাখা অবস্থান স্পষ্টতই প্রশ্ন জাগায়, এটি কি হত্যাকাণ্ড, নাকি নিখোঁজের ঘটনারই একটি নতুন অধ্যায়?
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, “একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর এভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু গোটা সাংবাদিক সমাজের জন্য অশনি সংকেত।” এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেকেই ধারণা করছেন, স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়া ও বুলুর মৃত্যু—দুই ঘটনাই হয়তো একই সূত্রে গাঁথা।