শিরোনাম |
❒ ঘুসে তুষ্ট তদন্ত কমিটি!
❒ হাতে-নাতে ধরা পড়ার এতো এতো ছবি-ভিডিও-সবই কি ফেইক-প্রশ্ন অনেকের
❒ সেই হানে-নাতে ধরা ঔষুধ চোরচক্রের ছবি ছবি:
যশোর সদর হাসপাতালে এইচআইভি রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি একের পর এক সময় বাড়িয়ে টানা ৩০ দিন পর একটি ‘বিতর্কিত’ তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যেখানে চুরির কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই ঘটনায় ভিডিও ফুটেজসহ একাধিক প্রমাণ তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সুধী সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। খোদ হাসপাতালের অনেকের অভিযোগ তদন্ত কমিটি মোটা অংকের ঘুষ
চলতি জুলাই মাসের এক তারিখ দুপুরে হাসপাতালের মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মী ১২ কাটনভর্তি এইচআইভি প্রকল্পের সংবেদনশীল ওষুধ—বিশেষত লুব্রিকেন্ট—ব্যক্তিগত বাসায় নেয়ার সময় হাসপাতালেই বিষয়টি ফাঁস হয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তারা বলতে থাকেন-স্যারের সাথে দেখা করেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ হট্টগোল হতে দেখা যায়।
বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন শাফায়েত পর্যন্ত গড়ারে তিনি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৬ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।
কিন্তু, সময়সীমা পেরিয়ে দুই দফায় সময় বাড়িয়ে অবশেষে ৩০ দিন পর আজ বুধবার (৩০ জুলাই) রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "ঘটনায় ওষুধ চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট সবাই নির্দোষ।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক কর্মচারী স্পষ্টভাবে বলছেন যে, ওষুধগুলো ‘নীল’ নামে আরেকজন কর্মচারীর বাসায় পাঠানো হচ্ছে। ভিডিওটি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হলেও সেটি রিপোর্টে কোনোভাবেই উল্লেখ করা হয়নি।
সদর হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তদন্ত রিপোর্ট দেরিতে জমা দেওয়ার কারণ হলো বিষয়টি থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের নজর সরানোর অন্যতম কৌশল। তাছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে আসল সত্যকে আড়াল করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভিডিও ফুটেজ, স্বাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নির্দোষ ঘোষণা করার মানে হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ওষুধ পাচারের পথ সুগম করে দেওয়া।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় সুধী সমাজ ও স্বাস্থ্যসচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, “এইচআইভি রোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধ চুরি করে বিক্রি করা শুধু বেআইনি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ। অথচ সেই অপরাধকে আড়াল করতে প্রশাসনকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন, “যদি এই তদন্তের পরও কেউ দোষী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের স্টোর থেকে দামি ওষুধ সরিয়ে ফেলা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।” এরআগে সাইফুল নামে এক কর্মচারী ঔষুধ চুরি করে ধরা পড়েন। তার শাস্তি হয় বদলী! এ ধরণের চুরির ঘটনায় বদলী কোনো শাস্তি হতে পারে না, বরং তাকে পার পাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে মন্তব্য হাসপাতালটির একাধিক সূত্রের। এবারও সেই ঘটনা ঘটলো।
সুশীল সমাজ বলছে, “এটি একটি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ ছাড়া কিছু নয়। ভিডিও প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য থাকার পরও যদি চুরি না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠে—এই তদন্ত কেন? কার স্বার্থে এই তদন্ত?”
তারা অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।