শিরোনাম |
❒ চাকরি চলে গেলেও বিবাহিত মেয়েদের ক্লাস করতে দেবো না-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
❒ গো ধরে বসা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নানা ছুতোয় হেনস্তা করবে না তো ?
❒ বামে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,তারর ভুক্তভোগী ছাত্রী ছবি:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাল্যবিয়ে হওয়া সেই ছাত্রী অবশেষে স্কুলে ফিরতে পেরেছে। আজ বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে স্বরূপপুর-কুসুমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করে সে। এতে খুশি তার সহপাঠী ও পরিবার। তবে তার স্বাভাবিক লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বেশ দাপুটের সাথেই বলেছিলেন, চাকরি চলে গেলেও বিবাহিত কোনো ছাত্রীকে ক্লাস করতে দেবো না। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মেয়েটি ক্লাস করার সুযোগ পেলেও শিক্ষক মমিনুর রহমান তার চেয়ে যেকোনো উপায়ে ক্ষতি করবেন না, তার গ্যারান্ট্রি কী-এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।
এর আগে বাল্যবিয়ে হওয়ায় এই ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় বিস্তর সংবাদ ছাপা হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে মেয়েটি ক্লাসে ফিরতে পেরেছেন। এখন প্রশ্ন হলো গো ধরে বসা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান কী বিষয়টিকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেবেন নাকি নানা ছুতো ধরে হেনস্তা করবেন, নাকি পরীক্ষায় ফেল করিয়ে বিদায়ের পথ তৈরি করবেন-এমন শঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সচেতন মহল। এ পরিস্থিতির দিকে প্রশাসন কতটা নজর রাখতে পারবে-তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
এদিকে, স্কুলে আজ ক্লাস করতে পেরে ওই ছাত্রী বলে, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। স্যারেরা আমাকে বলেছেন, খুব ভালো করে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে। যারা আমাকে স্কুলে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে, আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ তার এক সহপাঠী বলে, ‘খুব ভালো লাগছে আমাদের। বিবাহিত হলেও তো সে আমাদের বান্ধবী। আমরা একসঙ্গে এত দিন পড়ছি।’
ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে স্কুলে যেতে দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। সে আজকে ক্লাস করেছে। সবার চেষ্টায় আজকে আমার মেয়ে স্কুলে ক্লাসে ফিরেছে। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক।’
মহেশপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীনেশ চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষককে বলে দিয়েছি। ওই ছাত্রী ক্লাস করছে।’
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে ক্লাস করতে না দেওয়ার বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি। ওই ছাত্রী ক্লাস করছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকসহ সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের শঙ্কা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিয়ে। তবে স্থানীয়রা সচেতন থাকলে মেয়েটি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে-এমনটিই বলছেন প্রশাসনের একাধিক সূত্র।