শিরোনাম |
❒ ঢাকা সিটি করপোরেশনের দায় নেই?
❒ ফুঁপিয়ে কাঁদছে জ্যোতির ৬ বছরের যমজ শিশু
❒ গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মারা যাওয়া ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির ছয় বছরের যমজ শিশুসন্তান আরিয়ান ও আইয়ান ছবি:
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মারা যাওয়া ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি (৩২) ছিলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মৃত বাবলুর মেয়ে। দুর্ঘটনায় তার অকাল মৃত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার দুই যমজ শিশুর কান্না থামছে না।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরে জ্যোতির মরদেহ নিয়ে পৌঁছান স্বজনরা। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা দেয়া যায় মৃতের ছয় বছরের যমজ শিশুসন্তান আরিয়ান ও আইয়ানকে। রাত ১০টায় পুরাতন গোরস্থান জামে মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন গোরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করে পরিবার।
ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি রাজধানীর মিরপুরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি মনি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল হেলথ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এরআগে গত রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকনা খোলা ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ হন জ্যোতি। রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। অবশেষে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে টঙ্গী এলাকার শালিকচুড়া (টেকপাড়া) বিল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।
জ্যোতির ভাই আক্তারুজ্জামান শোভন বলেন, ‘গত রোববার আমার বোন নিখোঁজ হয়, প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিস তার লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের পরেই আমরা লাশ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা উদ্দেশে রওনা হই। পরিবারের সবার মতামতের ভিত্তিতে এশার নামাজের পর পুরাতন গোরস্থানে তাঁর লাশের দাফন করা হয়।’
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মারা যাওয়া ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির ছয় বছরের যমজ শিশুসন্তান আরিয়ান ও আইয়ান
এদিকে রাত ১০টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির জানাজায় চুয়াডাঙ্গার নানা স্তরের মানুষ অংশ নেয়। দুই শিশুছেলের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
জ্যোতির বড় ভাইয়ের ছেলে আশিকুজ্জামান নিশাত বলেন, ‘এই যে দুর্ঘটনাটি ঘটল। নিষ্পাপ দুই শিশুকে দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাঁদের কী বলে সান্ত্বনা দেব। মানুষের জীবনের মূল্য নেই। ঢাকনাবিহীন ড্রেন জীবন কেঁড়ে নিল। দুই শিশুর কাছ থেকে তাদের মাকে কেড়ে নিল।’
জানাজা ও দাফনে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতির সদস্যসচিব সুমন পারভেজ খানসহ নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।