শিরোনাম |
❒ ঢাকা মেডিকেলে টানা ৫দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে থেমে গেল আজ
❒ মৃত্যুর কাছে হেরে গেল কোদালিয়ার স্কুলছাত্রী ফারিয়া,ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু ছবি:
যশোরের কোদায়ালিয়া গ্রামের স্কুলছাত্রী ফারিহা (১২) বাঁচানো যায়নি। টানা ৫দিন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেল এই শিশু ছাত্রী। সে লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমানের মেয়ে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাচা গোলাম রসুল।
গোলাম রসুল জানান-আজ সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফারিহা খাজুরা মণীন্দ্রনাথ মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণি ছাত্রী ছিল। ২৩ জুলাই ফারিয়া স্কুলে যাওয়ার জন্য যশোর-মাগুরা মহাসড়কের কোদালিয়া বাজারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয় দুর্ঘটনার মধ্যদিয়ে। একটি বাসে ওঠার সময় চালক গাড়ি টান দেয়। এ সময় ছিটকে পড়ে যায় ফারিয়া। এ সময় বাসচাপায় গুরুতর আহত হয় ফারিয়া। চাকায় তার পা পিষ্ট হয়। কোমরের হাড় ভেঙে তছনছ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়া ফারিহাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন চিকিৎসক। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা বাসটি ভাঙচুর করে।
ফারিহার চাচা গোলাম রসূল বলেন, ‘ফারিহাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। দুর্ঘটনায় ফারিহার কোমর, দুই পা পর্যন্ত এমনভাবে পিষ্ট হয়েছে, কোনটি কী সেটা বোঝার উপায় নেই। ৫ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা চলছিল। তার ডান পায়ে পচন ধরেছিল। আজ দুপুরে তার অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মৃত্যুর কাছে হার মেনে চলে গেছে না ফেরার দেশে।’
তিনি বলেন, ‘ফারিহার বাবা গরিব হলেও ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখত। দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার মা–বাবা।’ গোলাম রসূল জানান, লাশ ঢাকা থেকে যশোরে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাতে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।
খাজুরা মণীন্দ্রনাথ মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বলেন, ‘আজ সকালে মেয়েটি সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়েছে। খবর পেয়ে স্কুলের বাচ্চারা বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল নাগাদ লাশ আনা হতে পারে জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ফারিহার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জানাজার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত বলেন, ‘ঘটনার দিন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা যশোর মাগুরা সড়ক অবরোধ করে। সেখানে আমি গেছিলাম। তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, বাসচালক ও হেলপারকে আটক করা হবে। আমরা এখনো কাউকে আটক করতে পারিনি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কোনো অভিযোগ বা মামলা করেনি। তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’