শিরোনাম |
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ডুমুরখালি গ্রামের আব্দুল মান্নান হত্যা মামলায় আটক নিহতের ভাই আব্দুল হান্নান ও ভাইপো রহমতুল্লাহ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিদ্যুতের মিটার ভাঙাকে কেন্দ্র করে তারা উত্তেজিত হয়ে মারধর করেন-এমনটিই স্বীকারোক্তিতে বলা হয়েছে। যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে নিহতের মেয়ে একটি ঘরের ছাদ থেকে চিৎকার দিয়ে বলছেন-মা ভাই দা বের করেছে। আব্বাকে বাঁচাও। এ সময় লোকজনকে চিৎকার চেচামেচি করতে শোনা যায় কিন্তু এরমধ্যে আব্দুল মান্নানকে ভাইপো রহমতুল্লাকে কোপাতে দেখা যায়। এ সময় নিহতের স্ত্রী ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় নিহতের মেয়েকে চিৎকার, কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
জানা যায়-আসামিদের সঙ্গে আব্দুল মান্নানের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে গত ১২ জুলাই আব্দুল মান্নান তাদের সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙে দেন বলে অভিযোগ তোলে খুনিরা। ওইদিনই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আব্দুল মান্নান লোহার রড দিয়ে হান্নানের মাথায় আঘাত করেন। স্ত্রী-ছেলে ঠেকাতে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। তখন হান্নান দা দিয়ে মান্নান ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দুজনকেই ঢাকায় নেওয়া রেফার করেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মান্নানের মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুলাই দুপুরে বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় আব্দুল মান্নান গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন বাদী হয়ে চাচা-চাচিসহ ৩জনকে আসামি করে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। চিকিৎসা শেষে হান্নান ও রহমতুল্লাহকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।