রবিবার , ৩১ আগস্ট ২০২৫ , ১৬ ভাদ্র ১৪৩২
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)
সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি,সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্যের নেই ভিত্তি
প্রকাশ : শনিবার, ২১ জুন , ২০২৫, ০৮:৪৭:০০ পিএম
স্বর্ণলতা ডেস্ক:
Shornolota_2025-06-21_6856c66fdf8f5.JPG

❒ ফাইল ছবি:

সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে মৃত মরদেহের ময়নাতদন্ত করে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নাকি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য আবিষ্কার করেছেন—এ ভাইরাস নয়, বরং একধরনের ব্যাকটেরিয়া যা রেডিয়েশনের সংস্পর্শে এসে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে মৃত্যুর কারণ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবিটি ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা রকম ব্যাখ্যা ও তথ্যসূত্রসহ, যার উৎস হিসেবে দেখানো হচ্ছে "সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়"।

ঘটনার শুরু সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মৃতদেহের ময়নাতদন্ত থেকে। তথাকথিত এই ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরের রক্তনালিগুলো রক্ত জমাটে পূর্ণ, যা অক্সিজেন প্রবাহ ব্যাহত করে এবং এতে মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যধর্মী চিকিৎসা পদ্ধতি ও বিস্ময়কর সুস্থতা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্যে বলা হয়েছে, এই তথাকথিত ব্যাকটেরিয়াজনিত রক্ত জমাট সমস্যার মোকাবেলায় সিঙ্গাপুর সরকার নাকি অ্যাসপিরিন ও প্রদাহনাশক ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেয় এবং এর ফলে ১৪ হাজার রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

মহামারী নয়, বৈশ্বিক প্রতারণা?
এমনকি কেউ কেউ একে "বৈশ্বিক প্রতারণা" বলেও অভিহিত করছেন এবং দাবি করছেন, চীন এই তথ্য গোপন রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বিভ্রান্তি
তবে এই তথ্যের পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক জার্নাল বা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত তথ্য নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের CDC এবং সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও কখনও এ ধরনের বক্তব্য দেয়নি। করোনাভাইরাস যে SARS-CoV-2 নামক একধরনের ভাইরাস, সেটা জিনোম সিকোয়েন্সিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। কোভিড-১৯-এ রক্ত জমাট বাঁধার উপসর্গ থাকলেও সেটি ভাইরাসের কারণে শরীরের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ফল, ব্যাকটেরিয়ার কারণে নয়।

বিশ্বের নানা দেশে এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে অতীতেও, যার মধ্যে এই "রেডিয়েশনে সক্রিয় ব্যাকটেরিয়া" তত্ত্ব অন্যতম। বাংলাদেশেও এরকম বার্তা হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউবের মাধ্যমে বহুবার ভাইরাল হয়েছে, যা জনগণের বিভ্রান্তি বাড়ায় এবং ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এমন গুজবে কান না দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে, এবং কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ না খেতে।

বাস্তবতা যাচাই: এই প্রতিবেদনটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যসূত্র এ ধরনের দাবিকে সমর্থন করে না। আপনি এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারেন সিঙ্গাপুর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, WHO বা CDC এর তথ্যে।

আরও খবর

Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
🔝