শিরোনাম |
❒ চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে মানুষের ভীড় ছবি:
সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১৪ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন যশোর চুড়ামনকাঠির মনির হোসেন (৫৫)। মাঝে আর তার বাড়ি ফেরা হয়নি। ঈদের দিনও বাড়ির সবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। পাঠিয়েছিলেন কোরবানির টাকা। পরিবার ও জামাই-মেয়েদের নিয়ে ভালভাবে ঈদ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্ত্রীকে। কিন্তু এটাই ছিল তার পরিবারের সাথে শেষ কথা। নিয়তি তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে না ফেরার দেশে। অবশেষে বাড়ি ফিরলেন কফিনে। নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্না আর আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের এই প্রবাসী ৩ জুন মালয়েশিয়ায় অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
২০১১ সালে জীবিকার তাগিদে চোরাই পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মনির। সেদিন সকালে ট্রাকচালক হিসেবে কাজে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর ৮-৯ বছর চেষ্টার পর বৈধতা পেলেও দেনার দায়ে দেশে ফিরতে পারেননি। ২০২৪ সালের শুরুতে দুর্ঘটনায় তার ডান হাতের আঙুলগুলো কেটে পড়ে যায়। ঈদুল আজহার পর তার দেশে ফেরার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ঈদের আগেই মনির হোসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাদা কাপড়ে মোড়ানো তার মৃতদেহ ১৪ বছর পর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও সন্তানদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর শেষবারের মতো তাকে দেখতে যান ও পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন।
Tag এই রকম আরও টপিক